This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Monday, July 10, 2023

পথহারা

 পথহারা
কাজী নজরুল ইসলাম  


বেলা শেষে উদাস পথিক ভাবে,  

সে যেন কোন অনেক দূরে যাবে –  

উদাস পথিক ভাবে।  

  

  ‘ঘরে এস’ সন্ধ্যা সবায় ডাকে,  

‘নয় তোরে নয়’ বলে একা তাকে;  

পথের পথিক পথেই বসে থাকে,  

জানে না সে কে তাহারে চাবে।  

উদাস পথিক ভাবে।  

  

  বনের ছায়া গভীর ভালোবেসে  

আঁধার মাথায় দিগবধূদের কেশে,  

ডাকতে বুঝি শ্যামল মেঘের দেশে  

শৈলমূলে শৈলবালা নাবে –  

উদাস পথিক ভাবে।  

  

  বাতি আনি রাতি আনার প্রীতি,  

বধূর বুকে গোপন সুখের ভীতি,  

বিজন ঘরে এখন সে গায় গীতি,  

একলা থাকার গানখানি সে গাবে-  

উদাস পথিক ভাবে।  

  

  হঠাৎ তাহার পথের রেখা হারায়  

গহন বাঁধায় আঁধার-বাঁধা কারায়,  

পথ-চাওয়া তার কাঁদে তারায় তারায়  

আর কি পূবের পথের দেখা পাবে  

উদাস পথিক ভাবে।  

  

======

আপন পিয়াসী

 আপন পিয়াসী
কাজী নজরুল ইসলাম 


আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন  

খুঁজি তারে আমি আপনার,  

আমি শুনি যেন তার চরণের ধ্বনি  

আমারি তিয়াসী বাসনায়।।  

  

  আমারই মনের তৃষিত আকাশে  

কাঁদে সে চাতক আকুল পিয়াসে,  

কভু সে চকোর সুধা-চোর আসে  

নিশীথে স্বপনে জোছনায়।।  

  

  আমার মনের পিয়াল তমালে হেরি তারে স্নেহ-মেঘ-শ্যাম,  

অশনি-আলোকে হেরি তারে থির-বিজুলি-উজল অভিরাম।।  

আমারই রচিত কাননে বসিয়া  

পরানু পিয়ারে মালিকা রচিয়া,  

সে মালা সহসা দেখিনু জাগিয়া,  

আপনারি গলে দোলে হায়।।  

  

======

ঈশ্বর

 ঈশ্বর 
কাজী নজরুল ইসলাম 


কে তুমি খুঁজিছ জগদীশ ভাই আকাশ পাতাল জুড়ে’  

কে তুমি ফিরিছ বনে-জঙ্গলে, কে তুমি পাহাড়-চূড়ে?  

হায় ঋষি দরবেশ,  

বুকের মানিকে বুকে ধ’রে তুমি খোঁজ তারে দেশ-দেশ।  

সৃষ্টি রয়েছে তোমা পানে চেয়ে তুমি আছ চোখ বুঁজে,  

স্রষ্টারে খোঁজো-আপনারে তুমি আপনি ফিরিছ খুঁজে!  

ইচ্ছা-অন্ধ! আঁখি খোলো, দেশ দর্পণে নিজ-কায়া,  

দেখিবে, তোমারি সব অবয়বে প’ড়েছে তাঁহার ছায়া।  

শিহরি’ উঠো না, শাস্ত্রবিদের ক’রো না ক’ বীর, ভয়-  

তাহারা খোদার খোদ ‘ প্রাইভেট সেক্রেটারী’ ত নয়!  

সকলের মাঝে প্রকাশ তাঁহার, সকলের মাঝে তিনি!  

আমারে দেখিয়া আমার অদেখা জন্মদাতারে চিনি!  

রত্ন লইয়া বেচা-কেনা করে বণিক সিন্ধু-কুলে-  

রত্নাকরের খবর তা ব’লে পুছো না ওদের ভুলে’।  

উহারা রত্ন-বেনে,  

রত্ন চিনিয়া মনে করে ওরা রত্নাকরেও চেনে!  

ডুবে নাই তা’রা অতল গভীর রত্ন-সিন্ধুতলে,  

শাস্ত্র না ঘেঁটে ডুব দাও, সখা, সত্য-সিন্ধু-জলে।  

  

======

বিদ্রোহী

 বিদ্রোহী 
কাজী নজরুল ইসলাম 


বল বীর –  

বল উন্নত মম শির!  

শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!  

বল বীর –  

বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’  

চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’  

ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া  

খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,  

উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!  

মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!  

বল বীর –  

আমি চির উন্নত শির!  

  

  আমি চিরদূর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,  

মহা- প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!  

আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,  

আমি দুর্বার,  

আমি ভেঙে করি সব চুরমার!  

আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,  

আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!  

আমি মানি না কো কোন আইন,  

আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!  

আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর  

আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর!  

বল বীর –  

চির-উন্নত মম শির!  

  

  আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি,  

আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’।  

আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ,  

আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ।  

আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল,  

আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’  

পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’  

ফিং দিয়া দিই তিন দোল;  

আমি চপলা-চপল হিন্দোল।  

আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা,  

করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পান্জা,  

আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা!  

আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর;  

আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন চির-অধীর!  

বল বীর  

আমি চির উন্নত শির!  

  

  আমি চির-দুরন্ত দুর্মদ,  

আমি দুর্দম, মম প্রাণের পেয়ালা হর্দম হ্যায় হর্দম ভরপুর মদ।  

  

  আমি হোম-শিখা, আমি সাগ্নিক জমদগ্নি,  

আমি যজ্ঞ, আমি পুরোহিত, আমি অগ্নি।  

আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,  

আমি অবসান, নিশাবসান।  

আমি ইন্দ্রাণী-সুত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য  

মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর রণ-তূর্য;  

আমি কৃষ্ন-কন্ঠ, মন্থন-বিষ পিয়া ব্যথা-বারিধীর।  

আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।  

বল বীর  

চির উন্নত মম শির!  

  

  আমি সন্ন্যাসী, সুর-সৈনিক,  

আমি যুবরাজ, মম রাজবেশ ম্লান গৈরিক।  

আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস,  

আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ!  

আমি বজ্র, আমি ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার,  

আমি ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা হুঙ্কার,  

আমি পিণাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল, ধর্মরাজের দন্ড,  

আমি চক্র ও মহা শঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচন্ড!  

আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য,  

আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব।  

আমি প্রাণ খোলা হাসি উল্লাস, আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস,  

আমি মহা প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু গ্রাস!  

আমি কভূ প্রশান্ত কভূ অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী,  

আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্পহারী!  

আমি প্রভোন্জনের উচ্ছ্বাস, আমি বারিধির মহা কল্লোল,  

আমি উদ্জ্বল, আমি প্রোজ্জ্জ্বল,  

আমি উচ্ছ্বল জল-ছল-ছল, চল-ঊর্মির হিন্দোল-দোল!  

  

  আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণু, তন্বী-নয়নে বহ্ণি  

আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি!  

আমি উন্মন মন উদাসীর,  

আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর।  

আমি বন্চিত ব্যথা পথবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের,  

আমি অবমানিতের মরম বেদনা, বিষ জ্বালা, প্রিয় লান্চিত বুকে গতি ফের  

আমি অভিমানী চির ক্ষুব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়  

চিত চুম্বন-চোর কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম প্রকাশ কুমারীর!  

আমি গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল-করে দেখা অনুখন,  

আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা, তা’র কাঁকন-চুড়ির কন-কন!  

আমি চির-শিশু, চির-কিশোর,  

আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচড় কাঁচলি নিচোর!  

আমি উত্তর-বায়ু মলয়-অনিল উদাস পূরবী হাওয়া,  

আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীণে গান গাওয়া।  

আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি  

আমি মরু-নির্ঝর ঝর ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি!  

আমি তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি, এ কি উন্মাদ আমি উন্মাদ!  

আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!  

  

  আমি উথ্থান, আমি পতন, আমি অচেতন-চিতে চেতন,  

আমি বিশ্ব-তোরণে বৈজয়ন্তী, মানব-বিজয়-কেতন।  

ছুটি ঝড়ের মতন করতালি দিয়া  

স্বর্গ মর্ত্য-করতলে,  

তাজী বোররাক আর উচ্চৈঃশ্রবা বাহন আমার  

হিম্মত-হ্রেষা হেঁকে চলে!  

  

  আমি বসুধা-বক্ষে আগ্নিয়াদ্রি, বাড়ব-বহ্ণি, কালানল,  

আমি পাতালে মাতাল অগ্নি-পাথার-কলরোল-কল-কোলাহল!  

আমি তড়িতে চড়িয়া উড়ে চলি জোর তুড়ি দিয়া দিয়া লম্ফ,  

আমি ত্রাস সন্চারি ভুবনে সহসা সন্চারি ভূমিকম্প।  

  

  ধরি বাসুকির ফণা জাপটি  

ধরি স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের পাখা সাপটি’।  

আমি দেব শিশু, আমি চঞ্চল,  

আমি ধৃষ্ট, আমি দাঁত দিয়া ছিঁড়ি বিশ্ব মায়ের অন্চল!  

আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী,  

মহা- সিন্ধু উতলা ঘুমঘুম  

ঘুম চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝঝুম  

মম বাঁশরীর তানে পাশরি  

আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী।  

আমি রুষে উঠি যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া,  

ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া!  

আমি বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল ব্যাপিয়া!  

  

  আমি শ্রাবণ-প্লাবন-বন্যা,  

কভু ধরনীরে করি বরণীয়া, কভু বিপুল ধ্বংস-ধন্যা-  

আমি ছিনিয়া আনিব বিষ্ণু-বক্ষ হইতে যুগল কন্যা!  

আমি অন্যায়, আমি উল্কা, আমি শনি,  

আমি ধূমকেতু-জ্বালা, বিষধর কাল-ফণী!  

আমি ছিন্নমস্তা চন্ডী, আমি রণদা সর্বনাশী,  

আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!  

  

  আমি মৃন্ময়, আমি চিন্ময়,  

আমি অজর অমর অক্ষয়, আমি অব্যয়।  

আমি মানব দানব দেবতার ভয়,  

বিশ্বের আমি চির-দুর্জয়,  

জগদীশ্বর-ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম সত্য,  

আমি তাথিয়া তাথিয়া মাথিয়া ফিরি স্বর্গ-পাতাল মর্ত্য!  

আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!!  

আমি চিনেছি আমারে, আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!!  

  

  আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার  

নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!  

আমি হল বলরাম-স্কন্ধে  

আমি উপাড়ি ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে।  

মহা-বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত  

আমি সেই দিন হব শান্ত,  

যবে উত্পীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না  

অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না  

বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত  

আমি সেই দিন হব শান্ত।  

  

  আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,  

আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!  

আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!  

আমি খেয়ালী-বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!  

  

  আমি চির-বিদ্রোহী বীর  

বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!  

  

======

লিচু-চোর

 লিচু-চোর
কাজী নজরুল ইসলাম 


বাবুদের তাল-পুকুরে  

হাবুদের ডাল-কুকুরে  

সে কি বাস করলে তাড়া,  

বলি থাম একটু দাড়া।  

  

 পুকুরের ঐ কাছে না  

লিচুর এক গাছ আছে না  

হোথা না আস্তে গিয়ে  

য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে  

গাছে গো যেই চড়েছি  

ছোট এক ডাল ধরেছি,  

  

 ও বাবা মড়াত করে  

পড়েছি সরাত জোরে।  

পড়বি পড় মালীর ঘাড়েই,  

সে ছিল গাছের আড়েই।  

ব্যাটা ভাই বড় নচ্ছার,  

ধুমাধুম গোটা দুচ্চার  

দিলে খুব কিল ও ঘুষি  

একদম জোরসে ঠুসি।  

  

 আমিও বাগিয়ে থাপড়  

দে হাওয়া চাপিয়ে কাপড়  

লাফিয়ে ডিঙনু দেয়াল,  

দেখি এক ভিটরে শেয়াল!  

ও বাবা শেয়াল কোথা  

ভেলোটা দাড়িয়ে হোথা  

দেখে যেই আঁতকে ওঠা  

কুকুরও জাড়লে ছোটা!  

আমি কই কম্ম কাবার  

কুকুরেই করবে সাবাড়!  

  

 ‘বাবা গো মা গো’ বলে  

পাঁচিলের ফোঁকল গলে  

ঢুকি গিয়ে বোসদের ঘরে,  

যেন প্রাণ আসলো ধড়ে!  

  

 যাব ফের? কান মলি ভাই,  

চুরিতে আর যদি যাই!  

তবে মোর নামই মিছা!  

কুকুরের চামড়া খিঁচা  

সেকি ভাই যায় রে ভুলা-  

মালীর ঐ পিটুনিগুলা!  

কি বলিস ফের হপ্তা!  

তৌবা-নাক খপ্তা…!  

  

======

কান্ডারী হুশিয়ার

 কান্ডারী হুশিয়ার 
কাজী নজরুল ইসলাম 


দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার  

লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার!  

  

  দুলিতেছে তরি, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ,  

ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?  

কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ।  

এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।  

  

  তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!  

যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান।  

ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,  

ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার।  

  

  অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরন  

কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন।  

হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?  

কান্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার  

  

  গিরি সংকট, ভীরু যাত্রীরা গুরু গরজায় বাজ,  

পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ!  

কান্ডারী! তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ-মাঝ?  

করে হানাহানি, তবু চলো টানি, নিয়াছ যে মহাভার!  

  

  কান্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর,  

বাঙালীর খুনে লাল হল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর!  

ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর!  

উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পূনর্বার।  

  

  ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান,  

আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান  

আজি পরীক্ষা, জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ?  

দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুশিয়ার!  

  

======

আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে

আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে 
 কাজী নজরুল ইসলাম 


আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে-  

মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে  

আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।  

  

  আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে-  

বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার -ভাঙা কল্লোলে।  

আসল হাসি, আসল কাঁদন  

মুক্তি এলো, আসল বাঁধন,  

মুখ ফুটে আজ বুক ফাটে মোর তিক্ত দুখের সুখ আসে।  

ঐ রিক্ত বুকের দুখ আসে-  

আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!  

  

  আসল উদাস, শ্বসল হুতাশ  

সৃষ্টি-ছাড়া বুক-ফাটা শ্বাস,  

ফুললো সাগর দুললো আকাশ ছুটলো বাতাস,  

গগন ফেটে চক্র ছোটে, পিণাক-পাণির শূল আসে!  

ঐ ধূমকেতু আর উল্কাতে  

চায় সৃষ্টিটাকে উল্টাতে,  

  

  আজ তাই দেখি আর বক্ষে আমার লক্ষ বাগের ফুল হাসে  

আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!  

আজ হাসল আগুন, শ্বসল ফাগুন,  

মদন মারে খুন-মাখা তূণ  

পলাশ অশোক শিমুল ঘায়েল  

ফাগ লাগে ঐ দিক-বাসে  

গো দিগ বালিকার পীতবাসে;  

  

  আজ রঙ্গন এলো রক্তপ্রাণের অঙ্গনে মোর চারপাশে  

আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে!  

আজ কপট কোপের তূণ ধরি,  

ঐ আসল যত সুন্দরী,  

কারুর পায়ে বুক ডলা খুন, কেউ বা আগুন,  

কেউ মানিনী চোখের জলে বুক ভাসে!  

তাদের প্রাণের ‘বুক-ফাটে-তাও-মুখ-ফোটে-না’ বাণীর বীণা মোর পাশে  

ঐ তাদের কথা শোনাই তাদের  

আমার চোখে জল আসে  

আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে!  

  

  আজ আসল ঊষা, সন্ধ্যা, দুপুর,  

আসল নিকট, আসল সুদূর  

আসল বাধা-বন্ধ-হারা ছন্দ-মাতন  

পাগলা-গাজন-উচ্ছ্বাসে!  

ঐ আসল আশিন শিউলি শিথিল  

হাসল শিশির দুবঘাসে  

আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!  

  

  আজ জাগল সাগর, হাসল মরু  

কাঁপল ভূধর, কানন তরু  

বিশ্ব-ডুবান আসল তুফান, উছলে উজান  

ভৈরবীদের গান ভাসে,  

মোর ডাইনে শিশু সদ্যোজাত জরায়-মরা বামপাশে।  

  

  মন ছুটছে গো আজ বল্গাহারা অশ্ব যেন পাগলা সে।  

আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!  

আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!!  

  

 ======